মহেশখালীর গ্যাস যাচ্ছে চট্টগ্রামে, বঞ্চিত কক্সবাজার

53

মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে নির্মিত এলএনজি টার্মিনাল থেকে দৈনিক জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এবং এই গ্যাস থেকে খুব বড় একটি অংশ যোগান দিচ্ছে বন্দরনগরী খ্যাত চট্টগ্রামকে।

তবে মহেশখালীর খুব কাছে অবস্থান করা কক্সবাজার এই গ্যাস সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কিন্তু কক্সবাজারের ২৩ লক্ষ মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবির একটি কক্সবাজারের গ্যাস সংযোগ।


বাংলাদেশের পর্যটন খাত তথা সরকারের আয়ের অন্যতম উৎস হচ্ছে কক্সবাজার। কক্সবাজারের আধুনিকায়নে এবং এখানে পর্যটন শিল্পের বিকাশে ইতোমধ্যে সরকার বিভিন্ন ফার্স্ট ট্রাক প্রকল্প যেমন বিশ্বের সর্ব বৃহৎ ম্যারিন ড্রাইভ প্রকল্প, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ, কক্সবাজার বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন, মাতারবাড়িতে নির্মিত কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ এবং টেকনাফের সাবরাং এ ইকো ট্যুরিজম পার্কের মতো প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।


ইতোমধ্যে ঢাকা এবং চট্রগ্রাম কে আরো বেশি গতিশীল করতে বাংলাদেশের প্রথম হাই স্পিড(বুলেট ট্রেন) নির্মাণের জন্য যে সম্ভাব্যতা যাচাই হচ্ছে সেখানে বর্ধিত রুট হিসেবে কক্সবাজারকে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। তাছাড়া এগিয়ে চলেছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে চার লেনের নির্মাণ কাজ।

এতো সব বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পের ভিড়ে কক্সবাজারে সামান্য গ্যাস সংযোগ না থাকাকে নিছক “অবহেলা” হিসেবেই ধারণা করা যায়। কক্সবাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে সিলিন্ডারের মজুদকৃত গ্যাস বেশি দামে ক্রয় করে ব্যবহার করছে যা পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দেয়।

কোনো স্থানে বিনিয়োগের পূর্ব শর্ত হচ্ছে উন্নত অবকাঠামো, নিরবচ্ছিন্ন (গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি) সেবা ইত্যাদি। কক্সবাজারের মতো জায়গা রপ্তানি বহুমুখী করণের জন্য হতে পারে উৎকৃষ্ট জায়গা। এখানে স্থাপন করা যেতে পারে ফুড প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি কিন্তু যদি গ্যাস সরবরাহই যদি না থাকে তাহলে উৎপাদন নিয়ে এতো কিছু চিন্তা করাই নিছক বোকামি!

সিঙ্গাপুর যেমন “জেলে পল্লী” থেকে আজকের ধনী দেশগুলোর মধ্যে একটি শুধুমাত্র এর গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে। বাংলাদেশের কক্সবাজার ও ট্রান্স-এশীয় নেটওয়ার্ক এবং এর অবস্থানের কারণে বিদ্যমান সুযোগ সুবিধা কাজে লাগিয়ে এই অঞ্চলে হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য আশীর্বাদ।

বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে সত্যিকারের “মধ্যম আয়ের দেশ” হিসেবে দেখতে চাইলে দরকার বেশি বেশি শিল্পায়ন। এ অগ্রযাত্রায় কক্সবাজারকে যুক্ত করা এখন সময়ের দাবী।

©Jisan