করোনাকে আমরা শিশু সঙ্কটে পরিণত হতে দিতে পারি না: রাবাব ফাতিমা

52

শিশুদের প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান এবং নিয়মিত কর্মসূচিসমূহ অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে করোনা মহামারির প্রভাব তীব্র উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও ইউনিসেফের নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা।

তিনি বলেন, ‘আমরা এই মহামারিটিকে শিশুদের সঙ্কটে পরিণত হতে দিতে পারি না।’

মঙ্গলবার নিউইয়র্কে ইউনিসেফ নির্বাহী বোর্ডের দ্বিতীয় নিয়মিত অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

কোভিড-১৯ এর কারণে বিশ্বব্যাপী শিশুরা যে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হয়েছে তা তুলে ধরে ফাতিমা বলেন, এর প্রভাবে ৮০ মিলিয়নেরও বেশি শিশু চরম দারিদ্র্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে, ১.৬ বিলিয়ন শিশু স্কুলের বাইরে রয়েছে আর ১ বছরের কম বয়সী ৮০ মিলিয়ন শিশু জীবনরক্ষাকারী ভ্যাকসিন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কোভিডের ফলে ক্ষুধার্ত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬ মিলিয়নে।

বিশ্বজুড়ে ইউনিসেফের কর্মীরা অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিবেদিত সেবা প্রদানের মাধ্যমে অস্বাভাবিক এই পরিস্থিতিতে যেভাবে সাড়া দিয়েছেন তার জন্য ধন্যবাদ জানান ইউনিসেফ নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি। নজীরবিহীন এই সংকট মোকাবিলায় কর্মসূচি গ্রহণের ক্ষেত্রে ইউনিসেফকে সৃজনশীল চিন্তাভাবনা ও উদ্ভাবনশীল সমাধানে উদ্বুদ্ধ করেন তিনি। পাশাপাশি জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থার সাথে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন রাষ্ট্রদূত।

চলতি অধিবেশনে ইউনিসেফের ‘কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্ট’ সমূহের বিষয়বস্তু ‘শিক্ষা’র সাথে সামঞ্জস্য রেখে অনলাইন ও দূরশিক্ষণে প্রবেশাধিকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার আহ্বান জানান নির্বাহী বোর্ড সভাপতি।

প্রতিটি স্কুলকে ইন্টারনেটের সাথে এবং প্রতিটি যুবককে তথ্যের সাথে সংযুক্ত করার প্রয়াসে গৃহীত ইউনিসেফ ও আইটিই’র যৌথ পদক্ষেপ ‘গিগা’র সফলতার কথা তুলে ধরে তিনি সকল অংশীদারকে মহৎ এই কাজে তাদের দক্ষতা ও আর্থিক বিনিয়োগের মাধ্যমে অবদান রাখার আহ্বান জানান।

কোভিড-১৯-এর প্রেক্ষিতে মেয়েরা বিশেষ ঝুঁকিতে রয়েছে উল্লেখ করে মেয়েদের অগ্রগতি নিশ্চিত, মর্যাদা রক্ষা ও নিগ্রহ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নারী শিক্ষায় আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত ফাতিমা।

লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা ও বৈষম্য এবং ঋতুজনিত স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে সচেতনতা ও সুবিধার অভাবসহ এ জাতীয় নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা দূর করে নারী ও মেয়েদের পূর্ণ সম্ভাবনা উন্মোচনের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।

বৈশ্বিকভাবে ১-১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরের মৃত্যুর ক্ষেত্রে পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রধান একটি কারণ এবং এ কারণে বিশ্বে প্রতিবছর ৩ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি শিশুর মৃত্যু হয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ অন্যান্য এজেন্সি এবং এনজিওসমূহের সাথে যৌথভাবে দেশ পর্যায়ে ডুবে মৃত্যু রোধের পক্ষে জনসচেতনতা সৃষ্টির কাজ আরও জোরদার করতে ইউনিসেফের প্রতি আহ্বান জানান।

উদ্বোধনী অধিবেশনে অন্যান্যের মধ্যে ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা এইচ ফোর, সদস্য দেশসমূহের স্থায়ী প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন