বিথঙ্গল বড় আখড়া ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন

230

ডেস্কঃ হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলায় হাওর বেষ্টিত বিথঙ্গল গ্রামে অবস্থিত দেশের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বিথঙ্গল বড় আখড়া।

বৈষ্ণব ধর্মালম্বীদের অন্যতম তীর্থস্থান হিসাবে পরিচিত এই আখড়াটি ষোড়শ শতাব্দীতে রামকৃষ্ণ গোস্বামী নির্মাণ করেন। মধ্যযুগীয় স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত বিথঙ্গল বড় আখড়ায় ১২০ জন বৈষ্ণবের জন্য পৃথক পৃথক কক্ষ রয়েছে। এখানে যথাযোগ্য ভাবগাম্ভীর্য্যের মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব আয়োজন করা হয়ে থাকে।

বিভিন্ন উৎসবের মধ্যে আছে আষাড় মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে রথযাত্রা, ফাল্গুন মাসে দোল পূর্ণিমার ৫ দিন পর পঞ্চম দোল উৎসব, কার্তিক মাসের শেষ দিনে ভোলা সংক্রান্তিতে কীর্তন, চৈত্রের অষ্টমী তিথিতে পূণ্যস্নান ও বারুনী মেলা ইত্যাদি।

বিথঙ্গল বড় আখড়ার অন্যতম নিদর্শনের মধ্যে সুসজ্জিত রথ, পিতলের সিঙ্ঘাসন, ২৫ মণ ওজনের শ্বেত পাথরের চৌকি, রৌপ্য পাত্র ও সোনার মুকুট উল্লেখযোগ্য। প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক বানিয়াচং উপজেলা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ঐতিহাসিক এবং ধর্মীয় ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিথঙ্গল বড় আখড়া পরিদর্শন করতে আসেন।
বর্ষায় হাজার হাজার মানুষ আসে ঐতিহাসিক দৃশ্যণীয় স্হান পরিদর্শন করতে।

ঢাকা থেকে বানিয়াচংয়ের দূরত্ব ১৮১ কিলোমিটার। হবিগঞ্জ কিংবা শায়েস্তাগঞ্জ পৌঁছে অটোরিকশা, সিএনজি অথবা বাসে বানিয়াচং যাওয়া যায়। হবিগঞ্জ থেকে বানিয়াচংয়ের দূরত্ব ২৪ কিলোমিটার এবং শায়েস্তাগঞ্জ থেকে বানিয়াচংয়ের দূরত্ব ৩৬.২ কিলোমিটার। রেলপথ ব্যবহার করতে চাইলে ঢাকা হতে কেবল মাত্র শায়েস্তাগঞ্জ আসতে পারবেন।

বর্ষাকালে হবিগঞ্জের রত্না ঘাট থেকে অথবা কিশোরগঞ্জের ইটনা, মিঠামইন, তাড়াইল, অষ্টগ্রাম, নিকলী, বাজিতপুর হতে ইঞ্জিন নৌকাযোগে দেড় ঘণ্টায় থেকে দুই ঘন্টায় বিথঙ্গল পৌঁছার সহজ ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া শুকনো মৌসুমে হবিগঞ্জ কামড়াপুর ব্রীজ হতে সিএনজি বা জিপ দিয়ে আগুয়া গ্রাম পর্যন্ত অন্যদিকে একই জীপ বা সিএনজি দিয়ে ইকরাম এসে নৌকো বা পায়ে হেটে আখড়ায় যেতে হয়। তবে শুকনো মৌসুমে আখড়ায় যাওয়া অনেকটা দুষ্কর।