রাজনীতিতে ভালো মানুষের মূল্য নেই :মির্জা ফখরুল

67

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শফিউল বারী বাবুর স্ত্রীর একটা কথা না বলে পারছি না। বাবুর মৃত্যুর পর আমি যখন তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাই তখন তার স্ত্রী আমাকে বলেছিল যে ‘তার বিবাহিত জীবনে বাবুর কাছ থেকে খুব বেশি একটা সময় পাইনি। বেশিরভাগ সময় বাবুকে জেলে থাকতে হয়েছে আর বাহিরে থাকলে পালিয়ে থাকতে হয়েছে। করোনার কারণে বিবাহিত জীবনের শেষ চার মাস একসঙ্গে বসে দুপুরের খাবার খেতে পেরেছি।’

তিনি বলেন, আমার কাছে মনে হয় এটা একটা নষ্ট সময়। এখানে ভালো মানুষের কোনো মূল্য নেই। বিশেষ করে রাজনীতিতে নেই বললেই চলে। এরকম একটা অবস্থায় শফিউল বারী বাবু ও আব্দুল আওয়াল খানের মতো দুজন তরুণ নেতার চলে যাওয়া আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি, যা দল হিসেবে শুধু বিএনপির জন্য নয় পুরো রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্য।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিউল বারী বাবু এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা আবদুল আউয়াল খানের অকাল মৃত্যুতে মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় বিএনপি আয়োজিত এক ভার্চুয়াল স্মরণসভায় তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি বলব বাবুকে অনুসরণ করা যায়। তিনি অনুকরণীয় ছিলেন। তারা যতদিন বেঁচে ছিলেন ততদিন শহীদ জিয়ার আদর্শকে প্রতিষ্ঠায় কাজ করে গেছেন।’

বর্তমান সময়ে বাবু ও আউয়ালের খুব প্রয়োজন ছিল উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, একটা বড় ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদের ওপর চেপে বসেছে। আন্দোলন সংগ্রাম করে আমাদের ফিরিয়ে আনা গণতন্ত্রকে তারা নস্যাৎ করে দিয়েছে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমরা যে লড়াইটা লড়ছি সে লড়াইয়ে বাবু-আউয়াল সামনে থেকে লড়ছিল। এই লড়াই গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেয়ার লড়াই, মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেয়ার লড়াই। এই লড়াইয়ে দেশের সব মানুষের সমর্থন আছে। এরপরও কেন জানি সফল হচ্ছে না। এ সরকার অন্যায়ভাবে সব রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় চেপে বসে আছে।

তিনি বলেন, আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে কোনো ফ্যাসিস্টকে সরাতে হলে মূল্য দিতে হয়। রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা অনেক মূল্য দিয়েছি। আমাদের অনেক নেতাকর্মী গুম-খুনের শিকার হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৩৫ লাখ নেতাকর্মী মিথ্যা মামলার আসামি। দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনে একটা পরিবর্তন ঘটাতে হলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। বাবু-আউয়ালরা সেই কাজটি করছিলেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে ও বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর সঞ্চালনায় সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভুইয়া জুয়েল অংশ নেন।

জে/ নি/